Showing posts with label চিতা-চিতি সংবাদ !. Show all posts
Showing posts with label চিতা-চিতি সংবাদ !. Show all posts

Saturday, September 17, 2022

চিতা-চিতি সংবাদ !


চিতা-চিতি সংবাদ !



প্রণব কুমার কুণ্ডু



তিনটি চিতা !

পাঁচটি চিতি !

সনাতন ধর্মমতে

বিয়ে দিলে

দুইটি চিতি 

আজীবন

কুমারী থেকে যাবে !


********************

আজ প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi নামিবিয়া থেকে চিতা ভারতে আনার পর থেকে অনেকে অনেক উপহাস করছে বিশেষ করে বিরোধীরা, অখিলেশ যাদব তো আবার একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছে চিতার আওয়াজ বিড়ালের মত কেন? অখিলেশ বিষয়টা জানেনা তাই এটা পোস্ট করেছে , চিতার আওয়াজ অনেকটা বিড়ালের আওয়াজের মতোই। একচুয়ালি আমরা অনেকেই হয়তো বুঝতে পারছিনা চিতা আর চিতাবাঘ দুটো আলাদা প্রজাতি।
আসুন চিতা সম্পর্কে অল্প কিছু ধারণা অর্জন করি 👇
বাঘের মাসী বিড়াল। তাহলে সিংহ বা জ়াগুয়ারের সংগে বিড়ালের সম্পর্ক কী? হ্যাঁ, সম্পর্ক একটা আছে। এরা একই শ্রেণীভুক্ত। বিজ্ঞানের ভাষায় সিংহ, বাঘ, জাগুয়ার, চিতা, পুমা, চিতাবাঘ, বিড়াল ইত্যাদি ( 37 ধরনের প্রাণী) বিড়াল গোষ্ঠী ( Felidae) পরিবারভুক্ত প্রাণী। তবে বাঘ ছাড়া আর কারো সঙ্গে বিড়ালের মাসী-পিসি সম্পর্ক আছে কিনা জানা নেই। যাইহোক, আপাতত সম্পর্কের কথা সরিয়ে রেখে এই প্রবন্ধের নায়কের কথায় আসি। এই প্রবন্ধের নায়ক চিতার তেজোদীপ্ত দৌড় দেখলে উত্তেজনার আবেশে মন ভরে যায়। যেমন তার ভঙ্গিমা তেমন তার ক্ষিপ্রগতি। স্থলজীবি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে এত জোরে আর কেউ দৌড়াতে পারে না। সৌন্দর্যের বিচারেও চিতা প্রথম সারিতে থাকবে। ক্ষীণকটি, হাল্কা-পাতলা চেহারা, মেদবর্জিত লম্বা দেহ, গভীর বক্ষপিঞ্জর, নমনীয় শি্রদাঁড়া, লম্বা লেজ, গভীর নাসারন্ধ্র, তেজিয়ান চেহারা প্রাণীটিকে করে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন।
চিতা শব্দের উৎপত্তি-
চিতা শব্দের উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ ‘চিত্রক’ থেকে। চিত্রকের সমার্থক শব্দ ‘দ্বীপী’, যার অর্থ হল হলুদের উপর কালো ছোপ। তবে দুঃখের বিষয় হল, যে ভূখন্ড থেকে চিতা নামের উৎপত্তি সেই ভূখন্ডেই আজ আর চিতা নেই। 1952 সালে সরকারিভাবে ঘোষিত হয়েছে যে ভারত চিতা শূন্য। কেন এমনটা হল? এরজন্য দায়ী এদেশের রাজা-মহারাজাদের চিতা শিকারের লালসা। শোনাযায়, আকবর বাদশার সংগ্রহশালায় এক হাজার চিতা ছিল। শুধু তাই নয়, অনেকে আবার চিতাকে পোষ মানিয়ে শিকারের কাজে ব্যবহার করতেন। বর্তমানে চিতার প্রধান আবাসস্থল আফ্রিকা। এই মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল ছাড়া আর যেখানে চিতার দেখা পাওয়া যায় তা হল মধ্যপ্রাচ্যের ইরাণ। যদিও সেখানে চিতার সংখ্যা খুবই কম। ইরানিয়ান চিতা সোসাইটির হিসেব অনুযায়ী প্রাণীটির সংখ্যা এখন 40-এর কিছু বেশি। ইরান ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও এখন আর এশিয়াটিক চিতা দেখতে পাওয়া যায়না। তাই একে অনেক সময় ইরানিয়ান চিতাও বলা হয়ে থাকে। অথচ এক সময় ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং আরবের দেশগুলি ছিল এশিয়াটিক চিতার বিচরণ ক্ষেত্র। 1947 সালে ভারতে শেষ চিতার সন্ধান মিলেছিল। ভারতে আবার চিতার আবাসস্থল গড়ে তোলা যায় কিনা সে ব্যাপারে ভারত সরকার 1970 সালে একবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যেহেতু এসিয়াটিক চিতার বাস তখন শুধুই ইরানে ছিল তাই সে দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা প্রস্তাব নাকচ করে দেন যেহেতু সেখানেও এই প্রাণীটি বিলুপ্তপ্রায়। এরপরে ঠিক হয় আফ্রিকান চিতা এনে পরিকল্পনা সার্থক করা হবে। তখন জানা ছিল যে এশিয়াটিক চিতার উদ্ভব আফ্রিকান চিতা থেকে। যদিও সন্দেহ ছিল যে এদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে আফ্রিকান চিতা মানিয়ে নিতে পারবে কিনা। বিশেষ করে তাদের খাদ্যাভ্যাস পাল্টাতে হবে। কারণ আফ্রিকান অ্যান্টিলোপ ভারতে পাওয়া যায় না।
চিতাবাঘের সঙ্গে চিতার তফাৎ কী?
অনেকে চিতাবাঘের সঙ্গে চিতাকে গুলিয়ে ফেলেন। দেখতে অনেকটা কাছাকাছি হলেও ফারাক আছে অনেক। চিতার তামাটে হলুদ গায়ের রঙের উপর গোলাকার জমাটবাঁধা কালোছোপ থাকে, চিতাবাঘের থাকে গাঢ় হলুদের উপর চক্রাকার কালোছোপ। চিতার দু’চোখের পাস দিয়ে নেমে আসা কালোদাগ (tear-stripe) চিতাবাঘের থাকে না। চিতা যতটা ক্ষীণকটি, চিতাবাগ ততটা নয়। বাঘের সঙ্গে চিতাবাঘের আত্মীয়তা চিতার তুলনায় বেশি। চিতার উৎপত্তিগত মিল বিড়াল পরিবারের শিকারি পুমা বিড়ালের সঙ্গে বেশি। চিতা ঘাসজমিতে থাকতে পছন্দ করে বেশি, চিতাবাঘ জঙ্গলে। চিতা গাছে চড়তে পারেনা, চিতাবাঘ পারে। চিতার মুখগহ্বর ছোট শ্ব বা ছেদক দাঁতের (canine teeth) ব্যাপ্তি ও শক্তি সিকারের কন্ঠনালী ছেদ লরার মত যথেষ্ট নয়। তাই ক্ষিপ্রগতি হওতা সত্বেও চিতা বিড়াল পরিবারভুক্ত অন্যান্য শিকারি প্রাণীদের তুলনায় কিছুটা কমজোরি। সাধারনত 40–50 কেজি-র বেশি ওজনের প্রাণীদের এরা শিকার করে না। গ্যাজেল (Gazelle), ইমপালা (Impala), অ্যান্টিলোপ (Antilope) এদের বেশি পছন্দের শিকার। বাচ্চা চিতা খরগোশ, বুনোমুরগী ইত্যাদির মত ছোট প্রাণী ধরে শিকারের তালিম নেয়। চিতা রাতে বা প্রখর রোদে শিকার ধরতে বের হয় না। এদের শিকার ধরার সময় সাধারনত সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত। যেহেতু এরা শিকারের কন্ঠনালী ছেদ করতে পারে না তাই দাঁতের চাপে শ্বাসরোধ করে শিকারকে হত্যা করে। অনেকসময় সিংহ বা হায়নার দল ওৎপেতে বসে থাকে। চিতা শিকার ধরলেই তারা এগিয়ে এসে ছিনিয়ে নেয়। এদের সঙ্গে মারামারি করে শিকার নিজের দখলে রাখার সাহস চিতার হয় না। তখন দূর থেকে অসহায়ভাবে দেখা ছারা তাদের আর কিছুই করার থাকেনা। শকুনের ঝাঁক এলেও এরা শিকার ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাই শিকার ধরেই এরা খেতে শুরু করেনা। প্রথমে মৃত শিকারকে টেনেহিঁচড়ে ঝোপঝাড় বা বড় ঘাসের আড়ালে নিয়ে যায় তারপর খাওয়া শুরু করে। চিতা, বাঘ বা চিতাবাঘের মত একলা থাকেতেই ভালবাসে। শিশুসন্তান লালন পালনের জন্য স্ত্রী-চিতা কিছুদিন সন্তানদের নিয়ে ঘর বাঁধে। বাচ্চারা বড় হলেই যে যার নিজের পথে হাঁটা দেয়। একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী-চিতা একবারে 2–6 টি শাবকের জন্ম দিতে পারে। তিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত চিতাশাবকরা অসহায় অবস্থায় থাকে। এই সময় বহু শাবক সিংহ, হায়না, ঈগল প্রভৃতি প্রাণীদের আক্রমণে মারা যায়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা চিতা-শিশুমৃত্যুর হার কখনো কখনো 90 শতাংশও হয়ে থাকে। 16–18 মাস পর্যন্ত চিতাশাবকেরা মা-এর সঙ্গেই থাকে। স্তন্যপান বন্ধ হলে শিকার ধরা শেখে। দু’বছর বয়সে প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে। তখন এরা আলাদা হয়ে যায়। চিতার নির্দিষ্ট কোনো প্রজননকাল নেই। সারা বছরই এরা প্রজননক্ষম থাকে। তাই প্রকৃতির নিয়মেই ভারসাম্য রক্ষার জন্য এদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি। চোরাশিকারীদের হাতেও অনেক চিতা মারা যায়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা এদের সংখ্যা কমে যাওয়ার পিছনে আরও একটি কারণ আছে। সেটা হল জেনেটিক (genetic) ত্রুটি। চিতার পাঁচ-ছয়টি উপ-প্রজাতির মধ্যে কয়েকটি আজ বিলুপ্ত। সিংহ তথা অন্যান্য মাংসাশী প্রাণীদের সঙ্গে শক্তিতে পেরে না ওঠায় এদের বিচরণ ক্ষেত্র সীমাবদ্ধ। ফলে এদের মধ্যে অর্ন্তজনন (inbreeding)-এর হার খুব বেশি। প্রায় দশহাজার বছর ধরে চলা এই প্রজননগত ত্রুটির জন্য এদের মধ্যে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। চিতার শিশুমৃত্যুর হার বেশি হওয়ার এটাও একটি কারণ। তাই এত দ্রুত সংখ্যাহ্রাস। একসময় আফ্রিকা-এশিয়া মিলিয়ে 45 টি দেশে চিতা ছিল। বর্তমানে এশিয়ার একমাত্র ইরাণে (মাত্র কয়েকটি) এবং আফ্রিকার 18–20 টি দেশে হাজার দশেক চিতা আছে বলে শোনা যায়। সবচেয়ে বেশি চিতার দেখা পাওয়া যায় দক্ষিণ আফ্রিকার নামিবিয়া। সেখানে আড়াই হাজার চিতা আছে।
বড় বিড়াল, আউটডোর এবং যে টেক্সটে 'জাগুয়ার লেপার্ড চিতা' লেখা আছে-এর একটি ছবি হতে পারে
87
8টি কমেন্ট
10 বার শেয়ার করা হয়েছে