Showing posts with label বাঁশকানালির শবরজাতি ও বনজোছনা. Show all posts
Showing posts with label বাঁশকানালির শবরজাতি ও বনজোছনা. Show all posts

Monday, October 3, 2016

বাঁশকানালির শবরজাতি ও বনজোছনা

বাঁকুড়া    জেলার      রানিবাঁধ   ব্লকের     রূদড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের      বাঁশকানালির    শবরটোলা।
ওখানে   দলবদ্ধভাবে  একসাথে   বাস করে    ভারতের  প্রাচীন     আদিম আদিবাসী সম্প্রদায়ের     শিকারি জাতি  শবরেরা।
শবরটোলায়  কুড়িটা  পরিবারের   বাস।
মাথাগুণতিতে   সাকুল্যে   ছেষট্টি জন।
নিয়তির নিয়ন্ত্রণে   বঞ্চিত স্বজন!

সকালের   ব্রেকফাস্ট  তাদের
ছোট্ট একবাটি    মৌমাছি ভাজা।
দুপুরের  খাবারের  মেনু
কোন দিন    ইুঁদুর ভাজা
কোন দিন   গোসাপ ভাজা
কোন দিন    ঢোঁড়াসাপ ভাজা   বা
কোন দিন   পিঁপড়ের ডিম।
কোন দিন জোটে   পাখি ভাজা।
আর  দুটাকাকিলোদরের  দানখয়রাতের  রেশনের  বি.পি.এল-কার্ডের   মোটা   দুর্গন্ধময়     ফেলে দেওয়া চালের জ্বালদেওয়া
মাড়-ভাত!
সঙ্গে  খোলা বাজারের সস্তার নুন।

তবে  সেটা শুধু   ভোজ নয়
উপবাসে না থেকে    মহাভোজ!
জল খাবে  তাও নেই
একটি মাত্র চাপা কল
তাও   অকেজো!
গর্ত কুয়ো  নেই
পাতিকুয়ো  নেই
ইঁদারা   তো   নেই-ই নেই!

তীব্র জলকষ্টে
জোড়খালের জল
মাথায় করে বয়ে আনতে হয়।
মাটি  খুঁড়ে  খুঁড়ে
ডুরি দিয়ে  জল সেঁচে
উঁচু টিলা   ঠেঙিয়ে
বনবাদাড়  পেরিয়ে
কষ্টেসৃষ্টে   আসতে হয়।

কখনো  সখনো   থাকে    বনের শাক-পাতা      জংলি লতা    বুনো আলু    বুনো কচু   নানান   কন্দমূলের  রাঁধা  বাঁটা ঝোল।

তবে  গ্রামে সৌরবাতি আছে     তাতে রাতে    বনজোছনায়  দূরে কাছে  ছেয়ে যায়!


*তথ্যসূত্র    স্রীসুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ১০ম বর্ষ  ৯ম সংখ্যা, 'শাল পিয়াল ', খাতড়া, বাঁকুড়া।