মানব জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য কী ?
##
প্রণব কুমার কুণ্ডু
#
প্রণব কুমার কুণ্ডু
#
তিন প্রকার দুঃখের
অত্যন্তভাবে
আত্যন্তিক
নিবৃত্তি হয়ে যাওয়াই
মানব জীবনের
মুখ্য আর মূল
উদ্দেশ্য।
#
তিন প্রকার দুঃখ
কী কী ?
আধ্যাত্মিক
আধিভৌতিক
ও আধিদৈবিক।
#
নিজের
নিজের শরীরে
এবং নিজের মনে
যে দুঃখ
উৎপন্ন হয়
তাই আধ্যাত্মিক দুঃখ।
যেমন ঈর্ষা
দ্বেষ
লোভ
মোহ প্রভৃতি।
#
মানুষের থেকে
এবং অন্য প্রণিসমূহের দ্বারা
শরীরে ও মনে
যে দুঃখসমূহ
প্রাপ্ত হয়
তাই আধিভৌতিক দুঃখ।
যেমন
অন্য মানুষদের সঙ্গে
শারীরিক এবং মানসিক ভাবে
লড়াই
হিংস্র পশুর আক্রমণের
শিকার প্রভৃতি।
#
সময়ের বিচারে
দুঃখ
তিন প্রকার।
অতীতের দুঃখ
বর্তমানের দুঃখ
এবং অনাগত ভবিষ্যতের
দুঃখ।
#
ঐ তিন প্রকার
দুঃখের জন্যেই কি
পুরুষার্থ অর্জন করার
চেষ্টা করা উচিত ?
#
উত্তর না !
#
পুরুষার্থ
কখন অর্জন করবেন ?
বা অর্জন করার
চেষ্টা করবেন ?
#
অতীতের জন্য নয়।
কেননা অতীত তো
অতীতের গর্ভে গিয়ে
কালের অতল গভীরে
এবং মহাকালে
লীন হয়ে গেছে !
#
পুরুষার্থ অর্জন
কি বর্তমানের জন্য ?
#
বর্তমান তো ঘটেই চলেছে।
ঘটমান বর্তমান তো
ঘটেই চলেছে !
ঘটমান বর্তমানের দুঃখ
বড়জোর
একটু বেশিদিন চলতে পারে
মাত্র !
সেক্ষেত্রে করণীয় ?
দুঃখের কারণ কি
রদ করতে পারবেন ?
তাহলে
বর্তমান দুঃখ
জয় করতে পারবেন !
#
কেবল অনাগত দুঃখ
পুরুষার্থের যোগ্য।
ভূত তো অতীত হয়ে
ভূতপূর্ব হয়ে যায়।
বর্তমান 'ক্ষণিকের' মধ্যে
অতীত হয়ে যায়।
তাই সেই দুঃখেরও
স্বয়ং
নাশ হয়ে যায়।
তাই শুধুমাত্র
অনাগত দুঃখে নাশের
চেষ্টা করা উচিত।
#
যে দুঃখ এখনও
প্রাপ্তই হয় নি
তাকে নাশ করা যাবে
কী ভাবে ?
#
বৈশেষিক দর্শনে
বলা হয়েছে
'কারণের' নাশ হয়ে গেলে
তার প্রভাবে
'কার্য'ও নাশ হয়ে যায় !
তাই দুঃখের কারণকে
নাশ করতে হবে।
জেনে বুঝে
দুঃখের কারণকে
খুঁজেপেতে
বার করতে হবে।
#
মহর্ষ পতঞ্জলিও বলেছেন
আসন্ন দুঃখ
ত্যাগ করার যোগ্য !
তাকে দূর করার
প্রচেষ্টা করা উচিত।
#
সাংখ্য শাস্ত্রেও
অনুশীলনে ও বিশ্লেষণে
দুঃখের নিবৃত্তি
দুঃখ উৎপন্নের হেতু
দুঃখ নাশ করার উপায়
ইত্যাদি
পেতে পারেন !
##
