Sunday, July 5, 2020

কাঠের মূর্তি তৈরি বা দারু ভাস্কর্য এবং রঙ করা বা অঙ্গরাগ শিল্প--স্বপনক...



কাঠের মূর্তি তৈরি বা দারু ভাস্কর্য এবং  রঙ করা বা  অঙ্গরাগ শিল্প--স্বপনক...


784 subscribers
কাঠের মূর্তি তৈরি বা দারু ভাস্কর্য এবং রঙ করা বা অঙ্গরাগ শিল্প বাংলার সুপ্রাচীন লোক শিল্পের উদাহরণ। কাঠ বিশেষকরে নিমকাঠ দিয়ে মূর্তি বানানো হচ্ছে প্রাচীনকাল থেকেই। বর্ধমান জেলার বোড় গ্রামের বলরামমূর্তি চতুর্দশ শতকের দারু ভাস্কর্যের দৃষ্টান্ত। ষোড়শ শতক থেকে কাঠের তৈরি মূর্তির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন ধরনের মূর্তি তৈরি হয়,  যেমন কৃষ্ণ রাধা জগন্নাথ বলরাম গৌর নিতাই পঞ্চতত্ত্বর মূর্তি ইত্যাদি। এছাড়া কাঠের মূর্তি পূজিত হতে থাকে যেমন রাম লক্ষণ সীতা হনুমান কালী দুর্গা ইত্যাদি। প্রথম দিকে কাঠের মূর্তি বানানো এবং রঙ করতেন ভাস্কর বা ছুতোররা। পরে বৈষ্ণবধর্মে ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রশ্রয় পাওয়াতে মূর্তির রঙ করতে থাকেন ব্রাহ্মণ শিল্পীরা। এই ব্রাহ্মণশিল্পীদের কাঠের বিগ্রহগুলিকে রঙ করাকে বলা হয় অঙ্গরাগ বা অঙ্গসেবা বলা হয়। অঙ্গসেবা যারা করেন সেই শিল্পীদের বলা হয় অঙ্গরাগশিল্পী। অধিকাংশ ব্রাহ্মণ ভাস্করের বাস ছিল কাটোয়া অগ্রদ্বীপ নবদ্বীপ বা শান্তিপুর এলাকার। কাটোয়া থানার বেড়া গ্রামের খ্যাতনাম অঙ্গরাগশিল্পী ছিলেন শীতল মহান্ত।তিনি দক্ষিণবঙ্গের মন্দির বা পারিবারিক বৈষ্ণব বিগ্রহগুলির অঙ্গরাগ করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর, তাঁর সুযোগ্যপুত্র,  করুণাসিন্ধু গোস্বামী সেই ধারাটিকে বজায় রেখেছেন। করুণাসিন্ধুবাবু পেশায় শিক্ষক,মধ্যযুগীয় পুথিসংগ্রাহক। অবসরের সময় তাঁর ধ্যান জ্ঞান হলো এই দেববিগ্রহগুলির অঙ্গরাগ করা। নিজেদের পারিবারিক কানাই বলাই বিগ্রহ ছাড়াও কাটোয়ার গৌর,রাধাকান্ত,রাধামাধব,  ময়নাডালের মহাপ্রভু,  তথা বিভিন্ন জেলায় তিনি বৈষ্ণববিগ্রহের অঙ্গরাগ করেন।

No comments:

Post a Comment